~করোনার করুণা~
হ্যাঁ হ্যাঁ আমি জানি আপনি সব জানেন,
অ্যাদ্দিনে COVID-19 নামক বস্তুটির উপর আপনার প্রায়
পিএইচ ডি করা হয়ে গেছে! কি করে বিশ সেকেন্ড ধরে ঘষে ঘষে হাত ধুতে হয়,কোন মাস্ক
পরতে হয়,কিভাবেই বা তা পরতে হয় আপনি সব জানেন! আবার “WHO” কে
ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে যেসব ‘অতি বৈজ্ঞানিক’ তথ্য
৫জি স্পীডে আপনার মুঠো ফোনে পৌঁছে যাচ্ছে সেগুলো আদৌ কতটা সত্যি সেসব নিয়ে ‘ব্যোমকেশ
বক্সী’ গিরি না করে টুকটুক করে শেয়ার করে আপনিও যে অন্যকে টোটকা দিচ্ছেন নিরন্তর
তারও খবর রাখি বৈকি!এই মুহূর্তে কোন দেশে কতজন করোনার বলি হয়েছেন তাও আপনার
মুখস্থ। ঘরে বসে থেকে কাজ করতে করতে এসব তথ্য না জানলে যে আপনি অন্যদের থেকে
পিছিয়ে পড়বেন তাইনা?অনেকে আবার তো চিন আমেরিকাকে দুষে তাদের আগেই এই মারণ ভাইরাসের
প্রতিষেধক বের করে ফেলেছেন। তবে
‘সেসব’ সেবন করে তারা নিজেরাই
কোয়ারেনটাইনে যাচ্ছেন কিনা এটা সঠিক জানা নেই! বাইরে বেরোলেই করোনাজুজু কামড়ে দিতে
পারে এ ভয়ে আপনার খুদেটিও ঘরে,আর তাকে সামলাতে গিয়ে আপনি হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন
পৃথিবীতে ‘স্কুল’ নামক প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভবের আসল কারণ!কাগজ কিম্বা টিভি খুললেই
সেই একই করোনার কীর্তন,সব উপসর্গ পড়ার পর পাশ থেকে কেউ হেঁচে/কেশে উঠলেই আপনি তার দিকে এমন সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছেন সে বেচারা পালাবার
পথ পাচ্ছেনা ! যাদের এই অবস্থার মধ্যেও কাজে বেরতে হচ্ছে তারা যে কতটা আতঙ্কিত তা
আর বলার অপেক্ষা রাখেনা! দোকানে মাস্ক আর স্যানিটাইজারের জন্য হাহাকার পড়ে
গেছে,অগত্যা রুমাল বেঁধেই রাস্তায় নেমে পড়েছেন বহু মানুষ।
পড়ে পাওয়া এমন ছুটিতে কেউ আনন্দও করতে পারছেন না,চারিদিকে যেন ১৪৪ ধারা জারি হয়ে
গেছে।মনে মনে তাই করোনার উদ্দেশ্যে দু একটা ‘অপশব্দ’ প্রয়োগ করতে আপনি তাই পিছপা
হচ্ছেন না।
একটা
অদৃশ্য শত্রু গোটা পৃথিবীকে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এমন ভয় পাইয়ে দিয়েছে,যে
তথাকথিত সন্ত্রাসবাদীরাও নিজেদের কর্মপদ্ধতি দেখে লজ্জা পাবে! করোনা ব্যাটা কাউকে
ছাড়েনা,জাতপাত মানেনা,দেওয়াল তুলে একে আটকেও রাখা যায়না,রাডার
দিয়ে এর গতিবিধি নিরীক্ষণও করা যায়না আবার আইন করে একে দেশ থেকে নির্বাসন দেওয়াও কার্যত অসম্ভব। ভাবুন তো কি অসীম ক্ষমতা এর! শুধু
মানুষকেই কষ্ট দেন ইনি, গাছগাছালি কিম্বা মুরগি টুরগিকে পাকড়ান না, গরম ঠাণ্ডা সব
ওয়েদারেই দিব্বি মানিয়ে গুছিয়ে চলতে পারেন। গুজব যদিও অন্য কথা বলছে আর আপনি নিজেও
কতকটা দিশেহারা হয়ে সেইসব কথাতেই কান পাতছেন, নিজের জন্য,নিজের কাছের মানুষদের
সুস্থ রাখার জন্য অবশ্যই ।বিদ্বজনেরা যদিও বলছেন এর mortality rate অনেক অসুখের চাইতেই কম,তবে কে শোনে কার কথা?অনেকে তো আবার ৯৫% alcohol দিয়ে হাত ধোয়ার চাইতে "করোনা নিধনে কারণ পান" প্রকল্পেই বেশি জোর দিচ্ছেন!!
এসব কিছুর মধ্যে কোথাও যেন আমরা বুঝতে পারছি যে মানুষ এখনও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভীষণ
অসহায়, সে চাইলেই সব কিছুকে করায়ত্ত করতে অক্ষম। বিজ্ঞানীদের নিরন্তর চেষ্টায় হয়তো
অদূর ভবিষ্যতেই আমরা একে খতম করতে পারব,কিন্তু এই দুঃসময়টুকু আমাদের সারাজীবন মনে থেকে যাবে।আর যদি আশঙ্কা সত্যি হয়??? চিন্তা নেই,মানুষ আর কিছু পারুক বা না
পারুক আশা বুকে নিয়ে বাঁচতে জানে!